Main Menu

Vision & Mission

অধিদপ্তরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাঃ

অত্র অধিদপ্তরের বর্ণিত সমস্যা দূর করে অধিদপ্তরকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ও আইসিটি নির্ভর জরুরী বিবেচনায় বর্তমান সরকারের ভিশন ২০২১ কে সামনে রেখে এ প্রতিষ্ঠানটিকে আগামী দিনের জন্য যুগোপযোগী ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে অফিসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কম্পিউটার জ্ঞানে অভিজ্ঞ এবং অফিসের কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ডাটাবেজের আওতায় আনার লক্ষ্যে সাভূসে অধিদপ্তরকে যথোপযোগী করার জন্য বিভিন্ন মেয়াদী কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

ক) স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনা


১। অধিদপ্তরের জনবল কাঠামো সংস্কারঃ
অত্র প্রতিষ্ঠানটি অধিদপ্তর হলেও প্রতিষ্ঠান প্রধানের পদবী পরিচালক রয়েছে। এ পদটি উন্নীত করে মহা-পরিচালক এবং ০২টি পরিচালকের পদসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু পদ সৃষ্টি করে প্রতিষ্ঠানটি জনবলের দিক থেকে শক্তিশালী করণের প্রসত্দাব ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।

২। ক্যান্টনমেন্ট জেনারেল হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তরঃ

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড সাভূসে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা/কর্মচারী ও বোর্ডের চ্যাপ্টার্ড এলাকার জনবলের উন্নত স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে জেনারেল হাসপাতালকে ২০০ সজ্জা বিশিষ্ট পরিকল্পনা করে বর্তমানে ১০০ সজ্জায় রূপ দিয়ে সিরাজ-খালেদা মেমোরিয়াল জেনারেল হাসপাতাল নামে নতুন অত্যাধুনিক হাসপাতালে রূপান্তরের কাজ এগিয়ে চলেছে।

৩। অধিদপ্তরের নিয়োগ বিধি যুগোপযোগী করণঃ
অত্র অধিদপ্তরের নিয়োগ বিধি ১৯৮৪ সালে প্রণীত হলেও নিয়োগ বিধিটি অসম্পূর্ণ ও অনুপযোগী। নিয়োগ বিধিতে সংশ্লিষ্ট পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সমন্বয় করা হয়েছে। তাছাড়া প্রত্যেক কর্মকর্তা/কর্মচারী যাতে প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন হয় সে আলোকে প্রতিটি পদের যোগ্যতা নিরুপণ করে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।

৪। বোর্ডের নিয়োগ বিধি যুগোপযোগী করণঃ
বিভিন্ন বোর্ডে দক্ষ ও প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন কর্মকর্তা/কর্মচারীকে নিয়োগ করার লক্ষ্যে পুরাতন নিয়োগ বিধি পরিবর্তন করে সম্প্রতি নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

৫। ওয়েব সাইট ও ডাটাবেজ তৈরিঃ
অত্র অধিদপ্তরকে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করণের লক্ষ্যে অধিদপ্তর ও এর আওতাধীন ১৫টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের উন্মুক্ত যোগ্য তথ্য সম্বলিত একটি ওয়েব সাইট তৈরির কাজ চলছে। তাছাড়া অধিদপ্তরের কার্যক্রম সুষ্ঠূু ও দ্রুত সম্পাদনের জন্য সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীর ব্যক্তিগত ডাটাবেজ তৈরির কাজও চলছে। সারাদেশের প্রতিরক্ষা বিভাগীয় সম্পত্তির তথ্য ডাটাবেজের আওতায় আনার কার্যক্রমও হাতে নেয়া হয়েছে। এসব কাজের দরপত্র আহ্বান করে ইতোমধ্যে ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়েছে।

৬। ইংরেজী আইনসমূহ বাংলায় রূপান্তরঃ
ক) ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ও এমইও অফিস অনেকগুলো আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। এসব আইন ইংরেজীতে প্রণীত হওয়ায় অনেকক্ষেত্রে দূর্বোধ্য মনে হয়। ইতোমধ্যে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড সংক্রান্ত প্রায় ১০টি আইন বাংলায় রূপান্তর করে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।

খ) পুরাতন আইনকে যুগোপযোগী করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

৭। শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি ও মান বৃদ্ধিঃ
অত্র অধিদপ্তর ০৪টি কলেজসহ ৩৪টি স্কুল পরিচালনা করে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫০,০০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুলগুলোতে পড়াশোনার মান ও পরিবেশ ভালো হওয়ায় দিন দিন ছাত্র/ছাত্রী বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে গত এক বছরে বিভিন্ন স্কুলে একটি শ্রেণী, বিভিন্ন শ্রেণীতে নতুন ১৩টি সেকশন খোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৫ জন সহকারী শিক্ষক এবং ১৬ জন জুনিয়র শিক্ষকের নতুন পদ সৃষ্টি করে এসমস্ত পদে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। স্কুল ও কলেজগুলোতে মেধাবী ও উদ্দ্যোমী শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। কলেজ পর্যায়ে লেখাপড়ার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাকাস্থ শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজে বিভিন্ন বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

খ) মধ্য মেয়াদী পরিকল্পনাঃ

১। ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্থাপনঃ
বর্তমানে বাংলাদেশে ২১ টি ক্যান্টনমেন্ট থাকলেও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সংখ্যা মাত্র ১৫টি। বৃহৎ অনেক ক্যান্টনমেন্টে বোর্ড না থাকায় সে সকল ক্যান্টনমেন্ট পরিচালনায় কর্তৃপক্ষ বেশ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এজন্য পার্বতীপুরসহ রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে ০৪টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্থাপনের কাজ খুব শীঘ্র শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

২। এসডিও অফিস স্থাপনঃ
০৩টি এমইও অফিস সমগ্র বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিভাগীয় সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ করে থাকে। এমইও অফিসগুলোর কার্য এলাকা অনেক দূরে অবস্থানের কারণে দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত প্রতিরক্ষা বিভাগীয় জমির সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি যেমন দুরূহ হয়ে পড়ে অন্যদিকে নতুন জমি অধিগ্রহণসহ জরুরী প্রয়োজনে এমইওগণের পক্ষে দ্রুত পরিদর্শন করা এবং প্রয়োজনীয় জরুরী কাজ সম্পন্ন করা অনেকক্ষেত্রে কষ্টকর হয়ে পড়ে।

প্রতিরক্ষা বিভাগীয় জমির সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরী কার্য সম্পাদনের লক্ষ্যে সাভার, কুমিল্লা, সিলেট, যশোর ০১টি করে এসডিও অফিস চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

৩। ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের ডিসপেন্সারী জেনারেল হাসপাতালে উন্নীত করাঃ
প্রতিটি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের চ্যাপ্টার্ড এলাকার জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা সুবিধা প্রদান বোর্ডের অন্যতম দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে কুমিল্লা, বগুড়া, যশোর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের ডিসপেন্সারীগুলো পর্যায়ক্রমে জেনারেল হাসপাতালে রূপান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের ডিসপেন্সারীটি জেনারেল হাসপাতালে রূপান্তরের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে।

গ) দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনাঃ
বর্তমান সরকারের ভিশন ২০২১ কে সামনে রেখে এ প্রতিষ্ঠানটিকে আগামী দিনের জন্য যুগোপযোগী ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০২০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য কতিপয় দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যঃ-

১। চট্টগ্রাম ও ঢাকা এমইও'র জন্য নিজস্ব অফিস ভবন প্রতিষ্ঠা।
২। বগুড়া ও রংপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের আওতায় কলেজ প্রতিষ্ঠা।
৩। ময়মনসিংহ, সৈয়দপুর, রাজশাহী ও কাদিরাবাদ সেনানিবাসে ডিসপেন্সারী প্রতিষ্ঠা।
৪। বিভিন্ন সেনানিবাসে খেলার মাঠ ও শিশু পার্ক নির্মাণ এবং সুপার মার্কেট নির্মাণ।
৫। বিভিন্ন সেনানিবাসে স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণ।
৬। ঢাকা, সাভার, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে ডিওএইচএস নির্মাণ।
৭। অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীদেরকে কম্পিউটারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন মেয়াদী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ।
৮। ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ডিজিটাল পদ্ধতিতে চিঠিপত্র গ্রহণ/বিলি, রাজস্ব আদায়, অননুমোদিত নির্মাণে জন্য জরিমানা আদায় এবং বিদু্যৎ-পানির বিল আদায়ের কার্যক্রম গ্রহণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।